শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> রসুলপুর কলোনিতে দ্বিগুণের বেশি বিদ্যুতের ইউনিট খরচ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। বিষয়টি সকল বিশেষজ্ঞদের কাছে অমানবিক হলেও সংশ্লিষ্টদের যেন কিছুই করার নাই।
রসুলপুর এলাকার বাসিন্দারা জানায় প্রায় সহস্রাধিক অসহায় পরিবার মাথা গোজার ঠাই করতে কীর্তনখোলা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরে সরকারী খাস জমিতে মাটি ভরাট করে ঘর তুলে বসবাস করে। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বসবাস।
তাদের সুবিধার্থে বিসিসির সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন একটি মিটারের মাধ্যমে পুরো এলাকায় সাব মিটার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দেন।
মাত্র একটি মিটারের রিডিং অনুসারে বিদ্যুৎ বিল জমা দেয়ায় ব্যবসায়িক হারে এলাকাবাসীর বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে হয়।
এতে প্রত্যেক পরিবারের প্রায় ১২ টাকা হারে ইউনিট প্রতি বিল দিতে হয়। মরার উপর খরার ঘা এর মত বিষয়টি মনে হলেও এলাকাবাসী নিয়মিত বিল পরিশোধ করে। বিল উত্তোলনের দায়িত্ববানরা এবং মূল মিটারের রিডিং তৈরী করা বিষয়ে জটিলতা দেখা দিলে কয়েক বছর আগে বিল অপরিশোধ করার অভিযোগে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় কতৃপক্ষ।
কয়েক মাস বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার পর জনতার দাবিতে বিসিসির বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বিষয়টি সমাধান করে দেয়। মহানগর আওয়ামী লীগের মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের মাধ্যমে মোটা অংকের ভর্তুকি দিয়ে পুনরায় একই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে দেয়।
বর্তমানে একই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। রসুলপুর বাসীর নুন আনতে পানতা ফুড়ায় এর ভিতরে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ ১২ টাকার উপরে উঠে যায়। এতে এলাকাবাসীর পক্ষে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের পর চরম অসহনীয় হয়ে উঠে। মাঝে মাঝে খাদ্য উপোস থেকে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে গ্রীড ফেল,এলাকাবাসীর কাছে থেকে সাব মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল উত্তোলনকারীর বেতন সহ প্রতিমাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে ভর্তুকি দিতে হয় নিরব হোসেন টুটুলের। জনদরদি হিসেবে তিনি কতকাল এ ধরনের গচ্ছা দিয়ে আসবেন তারও কোন ইয়ত্তা নেই।
তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলে যেকোনো সময় রসুলপুর এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।পুরো এলাকাবাসীকে ভোগান্তিতে পড়বে।
বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ বরাবরই বলে আসছে রসুলপুর এলাকা সরকারি খাস জমিতে রয়েছে। ওই এলাকায় জমির কাগজ না থাকায় কারো ব্যক্তিগত নামে মিটার দেয়া যাচ্ছে না। বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যবসায়িক একটি মিটারের মাধ্যমে বিল করার পদ্ধতি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।এতে মূল মিটারের রিডিং অনুযায়ী ইউনিট রেট অনুসারে বিল ধার্য্য করা হয়।
কতৃপক্ষের এমন বক্তব্যের জবাবে রসুলপুর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বরিশাল নগরীর কেডিসী, চাঁদমারী, বরফকল, ভাটার খাল, পলাশপুরসহ অগনিত কলোনি রয়েছে। যেগুলো সরকারি খাস জমিতে থাকা সত্ত্বেও সেসব এলাকায় ঘরে ঘরে সরকারি মিটার দেয়া হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী উদ্যোগ ৬: “ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে রূপকল্প ২০২১: ২০২০ সালের মধ্যে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মান সম্মত বিদ্যুৎ’ গ্রহণ করেছে। অবশিষ্ট জনগোষ্ঠি মুজিব বর্ষের মধ্যেই বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশে রোহিঙ্গা আসলে তাদেরও বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের কি সরকারি মিটারে বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকার নেই? এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট বিশেষ বিবেচনা করে হলেও সরকারি মিটার দাবি করেন